राम सेना

বিশ্বব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়

মূল বিষয়বস্তুতে যান
Ram Sena বিশ্বব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়

রামসেনা Ramsena

রামসেনা ইশতেহার

একটি সমাজের শক্তি তার পরিচয়ের চেতনা, সাংগঠনিক ঐক্য, পারস্পরিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি, সামাজিক সুসংগতি এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই দলিলটি সেই প্রয়োজন, সেই মূল্যবোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে যার উপর রামসেনা প্রতিষ্ঠিত।

01

সংগঠন Sangathan

সংগঠিত সনাতনী সমাজের প্রয়োজন

একটি সমাজের শক্তি ও টিকে থাকা কেবল তার জনসংখ্যা, ঐতিহ্য বা অতীতের গৌরবের উপর নির্ভর করে না। সমাজের প্রকৃত শক্তি তার পরিচয়ের চেতনা, সাংগঠনিক ঐক্য, পারস্পরিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি, সামাজিক সুসংগতি এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা দ্বারা নির্ধারিত হয়। যে সমাজ নিজের পরিচয় বুঝে ও সংরক্ষণ করে, নিজের ইতিহাস জানে, নিজের অধিকার বোঝে এবং সেই অধিকার রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সক্ষম, সে পরিবর্তনশীল সময়ে নিজের অস্তিত্ব ও স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ ও শক্তিশালী করতে পারে।

সনাতন সভ্যতা বিশ্বের প্রাচীনতম ও ক্রমাগত বিকশিত সভ্যতাগত ঐতিহ্যগুলোর একটি। তার উপস্থিতি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, ভাষা, জাতি বা সম্প্রদায়ে সীমাবদ্ধ নয়। হিন্দু ও সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ বিশ্বজুড়ে, বিভিন্ন দেশ, অঞ্চল, ভাষা, সম্প্রদায়, ঐতিহ্য, প্রথা ও মতাদর্শে বাস করে। এই বৈচিত্র্য সনাতনী ঐতিহ্যের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবুও, এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও তাদের মধ্যে একটি বিস্তৃত সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ঐক্য বর্তমান। পরিবর্তনশীল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐক্যের অনুভূতিকে সমসাময়িক পদ্ধতিতে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন।

রামসেনা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি এই প্রয়োজনবোধ। রামসেনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই উদ্দেশ্যে যে সর্বভারতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হিন্দু ও সনাতনী সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে একটি কার্যকর সাংগঠনিক সংযোগ স্থাপন করা হবে।

সংগঠনের উদ্দেশ্য কেবল কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো নয়। বরং, সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নাগরিক স্বার্থকে একটি সংগঠিত কাঠামোতে আনা এবং সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের জন্য একটি স্পষ্ট দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করা।

02

ঐক্য Ekata

সনাতনী ঐক্য

সনাতনী সমাজের দীর্ঘ ইতিহাসে অনেক দর্শন, ঐতিহ্য, প্রথা ও সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। রামসেনার সাংগঠনিক দর্শন এই বৈচিত্র্যকে বিভাজনের কারণ নয়, বরং বিস্তৃত সনাতনী ঐতিহ্যের বিভিন্ন প্রকাশ হিসেবে গণ্য করে।

জাত, ভাষা, অঞ্চল, সম্প্রদায় বা প্রচলিত প্রথায় ভিন্নতা সত্ত্বেও, সনাতনী সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সুসংগতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন।

এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট পরিচয় বিলুপ্ত করা নয়। বরং, বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে একটি বিস্তৃত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করা।

রামসেনার বিশ্বাস, যে বিষয়গুলো ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীর পক্ষে কার্যকরভাবে তোলা কঠিন, সেগুলো একটি সংগঠিত সমাজ আরও স্পষ্টতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে তুলে ধরতে পারে।

অতএব সংগঠনের অর্থ কেবল সংখ্যা বাড়ানো নয়। সংগঠনের অর্থ দায়বদ্ধতার অনুভূতি, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গড়ে তোলা।

03

অস্মিতা Asmita

পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা

যেকোনো সমাজের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের অতীত জানা জরুরি। নিজের ইতিহাস, দর্শন, ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাহিত্য, শিল্প, স্থাপত্য, জ্ঞান-পদ্ধতি, উৎসব, সামাজিক প্রথা ও জীবনধারার জ্ঞান ছাড়া, একটি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে পারে।

রামসেনা সনাতনী সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও বিকাশকে কেবল অতীতের স্মৃতি রক্ষার প্রচেষ্টা মনে করে না। এটি পরবর্তী প্রজন্মের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সঙ্গেও যুক্ত।

সনাতনী ঐতিহ্যকে তরুণ প্রজন্মের কাছে যুক্তিসঙ্গত ও প্রাসঙ্গিক পদ্ধতিতে উপস্থাপনের প্রয়োজন, অথচ এটি আধুনিক শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গেও মানানসই থাকবে।

নিজের সংস্কৃতির সচেতনতা অন্য সংস্কৃতির প্রতি অসম্মান শেখায় না। বরং, একটি সুস্থ পরিচয়বোধ ব্যক্তিকে নিজের অবস্থানে আস্থা দেয় এবং বৈচিত্র্যময় সমাজে দায়িত্বশীল সহাবস্থানের ক্ষমতা বাড়ায়।

04

স্বাধীনতা Swatantrata

ধর্মীয় স্বাধীনতা

ধর্মীয় বিশ্বাস একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন ব্যক্তির নিজের ধর্ম বা বিশ্বাস সম্পর্কে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করা একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজের অপরিহার্য শর্ত।

একইসঙ্গে, বলপ্রয়োগ, প্রতারণা, ভয়, কৌশলী প্রলোভন বা অন্য কোনো অনৈতিক উপায়ে ধর্মান্তরের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।

এমন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আবেগের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন — তথ্য, তদন্ত, প্রমাণ এবং বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

রামসেনা ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, পাশাপাশি জোর করে বা প্রতারণামূলক ধর্মান্তরের অভিযোগের ক্ষেত্রে সামাজিক ও আইনি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়।

ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে দুটি প্রশ্ন আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত: ব্যক্তি কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনো অবৈধ প্রভাব, চাপ বা প্রতারণা জড়িত ছিল কি না।

05

সম্পর্ক Sambandha

আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের অবস্থান

আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক নিজেই কোনো অপরাধ নয়। সম্মতিপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিবাহের ক্ষেত্রে আইনি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা একটি মৌলিক বিবেচ্য বিষয়।

তবে, ভারতে সাধারণত "লাভ জিহাদ" নামে পরিচিত প্রবণতা ও অভিযোগ সম্পর্কে রামসেনার বিশ্বাস, প্রতারণা, জোরপূর্বক সম্পর্ক, পরিচয় গোপন করা, ধর্মান্তরের চাপ বা সংগঠিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

শুধুমাত্র এই কারণে একটি অভিযোগ সত্য বলে ধরে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় যে এটি ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। একইভাবে, শুধুমাত্র এই কারণে অনৈতিক কাজের সম্ভাবনা খারিজ করাও সমান অনুচিত যে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।

অতএব প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন করা উচিত তথ্য যাচাই, ভুক্তভোগীর অধিকার রক্ষা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে।

রামসেনার অবস্থান হল ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত, পাশাপাশি প্রতারণা, চাপ ও অবৈধ প্রভাবের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমান থাকা উচিত।

06

সুরক্ষা Suraksha

নারী, পরিবার ও সামাজিক সুরক্ষা

একটি সুস্থ পরিবার স্থিতিশীল সমাজের অন্যতম ভিত্তি। অতএব নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, পারিবারিক স্থিতিশীলতা, যুবকদের ভবিষ্যৎ এবং বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়; এগুলো সমাজের বিস্তৃত দায়িত্বের অংশ।

রামসেনা এমন সামাজিক পরিবেশকে সমর্থন করে যেখানে নারীরা মর্যাদা, সুরক্ষা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের প্রতি সম্মান নিয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচতে পারে, এবং যেখানে প্রতারণা, চাপ বা সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা রাষ্ট্র ও সমাজের কাছ থেকে যথাযথ সুরক্ষা পায়।

যেমন পরিবারের নামে কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করা অগ্রহণযোগ্য, তেমনই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নামে প্রতারণা বা চাপকে উপেক্ষা করাও অগ্রহণযোগ্য।

07

সমতা Samanata

সমতা ও বৈষম্যের প্রশ্ন

আইনের সামনে নাগরিকদের সমতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি।

রাষ্ট্রের নীতি, প্রশাসনিক কাঠামো বা আইনের প্রয়োগে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য আছে কি না, তা তদন্ত করা উচিত তথ্য, আইন ও সাংবিধানিক নীতির ভিত্তিতে।

রামসেনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর কার্যকর প্রশাসনিক, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সম্পর্কিত প্রশ্ন বিশেষভাবে উত্থাপন করবে।

যদি মন্দিরের আয় ও সম্পত্তির উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য থাকে, তবে এমন পার্থক্যের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা ও নিরপেক্ষতা জনসাধারণের আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত।

এটাও নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে মন্দিরগুলো প্রাপ্ত আয় ও দানের ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সামাজিক কল্যাণের জন্য কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ন্যায্য অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও বিবেচনা করা উচিত।

রামসেনা এই প্রশ্নগুলো কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরোধিতার রূপে নয়, বরং আইন, সমতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের প্রশ্ন হিসেবে উপস্থাপন করবে।

08

অধিকার Adhikara

অধিকার ও দায়িত্ব

শুধুমাত্র নিজের অধিকার নিয়ে আলোচনা করে কোনো সমাজ শক্তিশালী হয় না। অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে সম্পর্ক সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সনাতনী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি, তার সদস্যদের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক দায়িত্ব, দুর্বলদের প্রতি সহানুভূতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

রামসেনার কাছে, একটি শক্তিশালী সমাজ সেই সমাজ যেখানে মানুষ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন, অন্যের বৈধ অধিকারকে সম্মান করে এবং নিজের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।

09

যুব Yuva

নতুন প্রজন্ম

যেকোনো সভ্যতার ধারাবাহিকতা তার পরবর্তী প্রজন্মের উপর নির্ভর করে।

অতীতের গৌরবের আলোচনা যথেষ্ট নয়। পরবর্তী প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, চরিত্র, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসও দিতে হবে।

রামসেনা এমন এক প্রজন্মের কল্পনা করে যারা নিজের সনাতনী ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড় সম্পর্কে সজাগ, পাশাপাশি শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বিকাশের বোঝাপড়ার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বে প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত।

অতএব সনাতনী সমাজের ভবিষ্যৎ কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নয়। এটি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রশ্ন।

10

সেবা Seva

সামাজিক সেবা ও পারস্পরিক সহযোগিতা

একটি সংগঠনের শক্তি কেবল তার বিবৃতি দিয়ে নয়, বরং প্রয়োজনের মুহূর্তে সমাজে তার কার্যকর উপস্থিতি দিয়ে প্রমাণিত হয়।

সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন মানুষ আছেন যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, জরুরি অবস্থার মুখোমুখি, বা সামাজিক সহায়তার প্রয়োজন। এমন লোকদের পাশে দাঁড়ানো সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ।

শিক্ষা, সামাজিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ, আইনি সচেতনতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং প্রয়োজনভিত্তিক সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে রামসেনা পারস্পরিক সহযোগিতার একটি কার্যকর কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

11

সংবিধান Samvidhana

সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

রামসেনা কর্তৃক গৃহীত প্রতিটি সামাজিক ও অধিকারভিত্তিক অবস্থান আইন, সংবিধান, তথ্য ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে হবে।

যদি রামসেনা মনে করে কোনো আইন বা নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন, তবে এমন পরিবর্তনের দাবি সাংবিধানিক উপায়ে উত্থাপিত হবে।

যদি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে, তবে তার বিরুদ্ধে যুক্তি, প্রমাণ ও আইনি অবস্থান উপস্থাপন করা হবে।

যদি কোনো সামাজিক অভিযোগ বা অভিযোগ থাকে, তবে সংগঠন তার সত্যতা যাচাই করবে এবং আইনি প্রতিকারের অনুসরণ করবে।

সংগঠিত প্রতিবাদ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে, সেই অধিকারের দায়িত্বশীল প্রয়োগ সমান গুরুত্বপূর্ণ।

12

লক্ষ্য Lakshya

রামসেনার লক্ষ্য

রামসেনার উদ্দেশ্য এমন একটি সনাতনী সমাজ গড়ার দিকে কাজ করা যারা নিজের পরিচয় সম্পর্কে সচেতন, নিজের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, নিজের অধিকার সম্পর্কে সজাগ, নিজের দায়িত্বে দৃঢ় এবং প্রয়োজনে পারস্পরিক সহযোগিতায় সক্ষম।

এই উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট আইন, নির্বাচন, রাজনৈতিক ঘটনা বা সামাজিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়।

রামসেনার সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত। এটি এমন সমাজ গড়তে চায় যেখানে সনাতনী মানুষ:

  • নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে আস্থাশীল
  • সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করে
  • নারী ও পরিবারের সুরক্ষাকে মূল্য দেয়
  • ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করে
  • ধর্মান্তর ও আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের গুরুতর অভিযোগ তথ্য ও আইনের ভিত্তিতে যাচাই করে
  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সম্পদের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ নীতিকে উৎসাহিত করে
  • নিজের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পরবর্তী প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করে

রামসেনা কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণাকে সাংগঠনিক নীতি হিসেবে গ্রহণ করে না।

একইসঙ্গে, শুধুমাত্র এই কারণে অন্যের অবিচার, বৈষম্য, প্রতারণা, চাপ বা অধিকার বঞ্চনার অভিযোগ উপেক্ষা করার পক্ষে সে নয় যে বিষয়গুলো সমাধান করা রাজনৈতিকভাবে অসুবিধাজনক বা সামাজিকভাবে বেদনাদায়ক হতে পারে।

প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়ন তথ্য, যুক্তি, আইন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

13

প্রতিশ্রুতি Pratibaddhata

দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক প্রতিশ্রুতি

রামসেনার কাছে, সংগঠন কেবল একটি নাম, প্রতীক বা সদস্যতার তালিকা নয়।

সংগঠনের অর্থ হল ধারণার একটি সুসংগত সমষ্টি, একটি দায়িত্বশীল প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সমাজের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি।

সনাতনী সমাজের ঐক্যকে শক্তিশালী করা, তার সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ করা, মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা ও পারস্পরিক সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলা এবং আইন ও গণতন্ত্রের সীমার মধ্যে বৈধ দাবি উত্থাপন করা — এইগুলিই রামসেনার সাংগঠনিক দর্শনের মূল।

রামসেনার বিশ্বাস, কোনো সমাজের ভবিষ্যৎ অন্য কেউ এসে নির্ধারণ করে না। সেই ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব সমাজকে নিজেই নিতে হবে।

  • তাকে নিজের ইতিহাস জানতে হবে।
  • তাকে নিজের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করতে হবে।
  • তাকে নিজের অধিকার বুঝতে হবে।
  • তাকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
  • তাকে সমাজের দুর্বল সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
  • তাকে অবিচারের বিরুদ্ধে আইনি অবস্থান নিতে হবে।
  • এবং তাকে বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিস্তৃত সামাজিক ঐক্য গড়তে হবে।

দায়িত্ব, ঐক্য ও পরিচয়ের এই অনুভূতির ভিত্তিতেই রামসেনা একটি সংগঠিত, সচেতন, আস্থাশীল ও দায়িত্বশীল সনাতনী সমাজের ধারণাকে এগিয়ে নিতে চায়।

রামসেনা

রামসেনা — সনাতনী সম্প্রদায়ের ঐক্য, পরিচয়, অধিকার ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সংগঠিত সামাজিক শক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ।

সম্প্রদায়ে যোগ দিন